বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত্যু ৮৬ জনের, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

0
46

পাঞ্জাব: লকডাউনে বন্ধ মদের দোকান। তাই অনেকে বাড়িতেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে মদ বানাচ্ছে, বিক্রিও হচ্ছে হুড়মুড়িয়ে। কিন্তু তার কয়েকদিন পর থেকেই একে একে মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে শুরু করে। অনুমান করা হচ্ছে যে ওই ঘরোয়া মদের মধ্যে থাকা কিছু বিষাক্ত জিনিসের কারণেই মৃত্যু ঘটছে। ঘটনাটি পাঞ্জাব প্রদেশের। বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তেই থাকছে সেখানে। শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল ২১, একদিন পরেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬। ফলে পাঞ্জাবে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

শনিবার পাঞ্জাবের অমৃতসর রুরাল, গুরুদাসপুর ও তরণ তারণর নামক ৩টি জেলার মোট ১০০ টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত পাঞ্জাবের তরণ তারণ জেলায় মৃতের সংখ্যা ছিল ১৯, শনিবার তা বেড়ে ৪২ হয়েছে। এখন পর্যন্ত অমৃতসরে মৃতের সংখ্যা ১১, বাটালা আর গুরুদাসপুরে ৯।

পাঞ্জাবের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ কুলবন্ত সিং জানান, শনিবার তরণ তারণ জেলায় নতুন করে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার সদর আর শহর এলাকায় বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাঞ্জাবের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিষমদ পানে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় আরও বেশি। কারণ ভুক্তোভোগী অনেক পরিবার বিষয়টিকে সামনে আনতে চাইছেন না। কোনও অ্যাকশন নেওয়া হোক, সে টা চাইছেন না তারা। অনেকে আবার মৃতের পোস্টমর্টেমও করতে দিচ্ছেন না। তাই বিষপানে মৃত্যুর আসল সংখ্যা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার মতো একই বক্তব্য দিয়ে গুরুদাসপুরের জেলা প্রশাসক মোহম্মদ ইসফাক বলেন, অনেক পরিবার এটাই স্বীকার করছে না যে, তাদের পরিজনের মৃত্যু বিষাক্ত মদ খেয়ে হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এসব মৃত্যু ঘটেছে বলে জানাচ্ছে ওই পরিবারগুলো। লকডাউনের কারণে মদের দোকান বন্ধ থাকায় ঘরে বানানো চোলাই মদ খেয়েই এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পাঞ্জাব পুলিশের।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতি মৃতের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে দেয়া হবে। শুক্রবার টুইট করে তিনি বলেছিলেন, বিষাক্ত মদে মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। জালন্ধর ডিভিশনের কমিশনার এ তদন্ত পরিচালনা করবেন। দোষীদের কোনও অবস্থাতেই রেহাই মিলবে না।

তবে এঘটনাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা বলে তোপ দেগেছে বিরোধীরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর অপসারণের দাবি করেছে।

যদিও এ ঘটনায় ৭ জন আবগারি কর্মকর্তা ও ৬ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার ১৩ জন সরকারি আধিকারিক ও পুলিশ অফিসারদের সাসপেন্ড করেছেন।

শেয়ার করে ভারতীয় হওয়ার গর্ব করুন

আপনার মতামত জানান