WhatsApp Channel Join Now
Telegram Channel Join Now
Instagram Channel Follow Now

মহাজোটে আব্বাস এফেক্ট: পাখির চোখ বিধানসভা নির্বাচন

লড়াই ২৪ : বাংলা দখলের লড়াই এবার ত্রিমুখী। শাসকদল তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির একে অপরের দিকে অভিযোগের কাঁদা ছড়াছুড়ির পাশাপাশি সাজিয়ে চলেছে নিজেদের রননীতি। তবে তৃতীয় পক্ষ অর্থাৎ বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট-কেও এবারের নির্বাচনে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, ২১-র নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের সাথে আব্বাস সিদ্দিকীর নবগঠিত দল আইএসএফ ( ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ) যোগ দান।

আরও পড়ুন – স্বর্ণপদক জয়ী বিক্রি করছেন মুদি সামগ্রী

বাংলায় সংখ্যালঘু মুসলিমরা প্রায় ৩০ শতাংশ। আর যতই নিজেকে সেকুলার বলে নিজেকে আখ্যা দিক না কেন, তার পরিচিতির শুরু একজন ধর্মগুরু থেকেই। এই ধর্মগুরুই যখন রাজনীতির ময়দানে তখন রাজ্যের ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটের উপর তার প্রভাব কিছুটা পড়বে সেকথা বলাই বাহুল্য।

রাজ্য রাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে চোখে পড়বে, বাংলায় এই মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হয় এলাকা ভিত্তিক ভাবে। কোনও এক পথে তা চালিত হয়না। বাম জামানায় দেখা মিলত , দক্ষিণবঙ্গের মুসলিম ভোট ঝুঁকত বাম শিবিরের দিকে এবং উত্তর দিনাজপুর, উত্তর মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গের কিছুটা অংশ এবং মুর্শিদাবাদের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলি কংগ্রেসকে সমর্থন জুগিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, মালদা উত্তর মূলত অবাঙালি ঊর্দুভাষী মুসলিমদের প্রাধান্য বেশি। মুর্শিদাবাদের দিকে আবার বাঙালি মুসলমান দের সংখ্যায় বেশি। ওই বিস্তীর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে প্রচুর বাংলাদেশি মুসলমানেরও বসবাস।

২০০৯ সাল থেকে সেই ভোটের বেশির ভাগটাই ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চলে যেতে শুরু করে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার দিকে চলে যাওয়া ওই দক্ষিণবঙ্গের মুসলিম ভোট টানতে নাছোড়বান্দা বামেরা। যার ফলস্বরূপ বঙ্গ রাজনীতির এখন অন্যতম আলোচিত মুখ ভাইজান আব্বাসের সিদ্দিকীর সাথে জোটকে ব্যাপক প্রাধান্য দিচ্ছে বাম নেতৃত্ব। আর তাই টিএমসি-বিজেপি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আব্বাসকে এবারের নির্বাচনে জোটের সেনাপতি বলে আখ্যা দিতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন – ভাপা ডিমের কালিয়াতেই মাত….

যদিও বাম নেতৃত্ব এই সমালোচনায় কান দিতে নারাজ। বিরোধীদের আবার খোঁচা, ক্ষমতা দখলই এখন বাম শিবিরের প্রধান লক্ষ? তার জন্য নিজেদের ইতিহাস অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা পিছনে ঠেলে আব্বাস সিদ্দিকীর সিদ্দিকীর সঙ্গে জোট? যদিও বামেদের সাফাই, আব্বাস তাঁদের সঙ্গে লড়ছেন অধিকারের দাবিতে। কোনও ধর্ম এখানে ফ্যাক্টর হবে না। আইএসএফের প্রার্থী তালিকাতেও নাকি সেই ব্যাপারটাই প্রস্ফুটিত হবে।

সবমিলিয়ে নির্বাচনে যুযুধান দুই শিবিরের পাশাপাশি নজর রয়েছে জোটের দিকেও। আব্বাস সিদ্দিকী বাস্তবে বাংলা দখলে বাম অর্থাৎ বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটকে কতটা এগিয়ে দিতে সক্ষম হবে তা সময়ই বলবে।

এই খবরটা তাঁর সঙ্গে শেয়ার করুন, যার এটা জানা দরকার