করোনা বিধি ভুলে রঙের খেলায় উত্তাল গোটা শহর

0
107

কলকাতাঃ দূরত্ব-বিধি তো দূরের কথা, মাস্ক পরে থাকারও কোনো বালাই নেই। জমায়েত বা ভিড় এড়ানোর যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল,পালনের নূন্যতম ভাবমূর্তি ছিল না অনেকের।করোনাকালে রবিবারের বেপরোয়া দোল উৎসব কাটল এ ভাবেই। যা দেখে সচেতন নাগরিক থেকে চিকিৎসকদের একটাই প্রশ্ন, ‘‘রং মেখে পথে বেরোনো এই ভিড়কেই দিন কয়েক বাদে হাসপাতালে ভিড় করতে হবে না তো? অতিমারির জেরে ফের শুরু হবে না তো রুজি-রুটির হাহাকার?’’

করোনার এমন আশঙ্কা থেকেই দুর্গাপুজো বা ছটপুজোর মতো একাধিক উৎসবে কড়া অবস্থান নিয়েছিল আদালত। ভিড় এড়াতে রীতিমতো তৎপর ছিল পুলিশ-প্রশাসনও। কিন্তু নতুন করে যখন করোনা সংক্রমণের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তখন কেন সেই তৎপরতা দেখা গেল না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।

যদিও গত শুক্রবারই রং খেলার নামে জমায়েত বা ভিড় নিষিদ্ধ করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। তার পরেও এ দিন দেদার রং খেলা চলল শহর জুড়ে। শনিবার বেলার দিকে বিভিন্ন অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে রং খেলা শুরু হয়। রবিবার ছুটির দিন হলেও যা বন্ধ ছিল না।

এদিন চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের একটি সরকারি অফিসের সামনে স্রেফ রং খেলবেন বলেই জড়ো হয়েছিলেন কয়েক জন। তাঁদের কারও মুখেই নেই মাস্ক এমনকি, ছিল না ছোঁয়াচ এড়ানোর কোনও রকম চেষ্টাও। তাঁদেরই মধ্যে এক জন, নিমতার সুমনা কর্মকার বলেন, ‘‘প্রতি বছর রং খেলাটা অফিসের রীতি। করোনাকে ভয় পেয়ে কত দিন চলবে?’’

অন্যদিকে বাগবাজারে একটি কলেজের সামনে রং খেলতে আসা কয়েকজন আবার মিশে গিয়েছিল সদ্য পুড়ে যাওয়া বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে এক জন বললেন, ‘‘রং খেলার পরে খানা-পিনার ব্যবস্থাও আছে। ভাইরাসের ভয়ে এ জিনিস ছাড়া যাবে না।’’ এদিন চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার বললেন, ‘‘এ তো আমরা ভাবতেই পারি না। সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্ট জন, এত প্রচারের পরেও কারও হুঁশ হল না! আশঙ্কার সময় আসছে।’’

শেয়ার করে ভারতীয় হওয়ার গর্ব করুন

আপনার মতামত জানান