লখনউ – নিজেরই পরিবারের সাত জন সদস্যকে ঠাণ্ডা মাথায় গলার নলি কেটে খুন করার পর ১৩ বছর কেটে গিয়েছে, তবু ফাঁসির আসামী শবনম আলির পরিবার তাকে ক্ষমা করতে পারেনি। বরং তাঁদের একটাই চাওয়া। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফাঁসি হোক শবনমের।
২০০৮ সালে বাড়ির শিক্ষিত ডাবল এমএ পাশ করা শবনম তার প্রেমিককে সঙ্গে করে বাড়ির বাবা-মা, দুই ভাই, তাঁদের স্ত্রী,৯ মাসের ভাইপোকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানীয় খাইয়ে অচেতন করে কুঠারের আঘাতে একে একে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে পুলিশের কাছে সব স্বীকার করে নেয়।
উত্তরপ্রদেশের আমরোহার বাওয়ানখেড়ি গ্রামের ওই পরিবারের অপরাধ এটুকুই যে, বাড়ির শিক্ষিতা মেয়ের সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি স্কুলছুট সেলিমের সঙ্গে তার বিয়ে দিতে চাননি। এলাকার লোকের কথায়, ঘটনার বীভৎসতা এতটাই যে আজও ওই গ্রামে কোনও শিশুর নাম শবনম রাখা হয় না।
শবনমের ফাঁসির প্রসঙ্গে বাড়ির দুই সদ্যসসের বক্তব্য, ভাইঝির প্রতি তাঁদের বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই, বরং তাঁরা যা বললেন তাতে স্পষ্ট, শবনমের মতো মেয়ে পরিবারের কলঙ্ক। তার জীবন শেষ হলেই তাঁরা বাঁচেন। সবনমের কাকিমা ফতিমা স্পষ্ট বলেছেন, ‘‘সউদি আরবি এধরনের অপরাধীদের সঙ্গে যেমন নৃশংসতা শাস্তি দেওয়া হয়, ওদের সঙ্গেও তা-ই হওয়া উচিত।’’
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে স্বাধীনতার পর শবনমই হবেন দেশের প্রথম মহিলা অপরাধী,যার ফাঁসি হবে। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর ফাঁসি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। মথুরা জেলে ফাঁসির প্রস্তুতি শুরু হলেও শেষপর্যন্ত ফাঁসি হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে শবনমের পরিবার চাইছে ঘরের মেয়ের ফাঁসিতে যাতে কোনও বাধা-বিঘ্ন না আসে।

মাত্র ১২ হাজারে ৮ জিবি RAM এর মোবাইল- এখনই কিনুন