WhatsApp Channel Join Now
Telegram Channel Join Now
Instagram Channel Follow Now

 আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল বৃক্ক বা কিডনি। কোনও কারণে কিডনি আক্রান্ত হলে বা কিডনিতে কোনও রকম সংক্রমণ হলে শরীরে একের পর এক নানা জটিল সমস্যা বাসা বাঁধতে শুরু করে। তাই শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে কিডনির যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।  কিডনির অবস্থা ঠিক থাকলে শরীরে হরমোন ব্যালান্স ঠিক থাকে। এছাড়াও মানবদেহে ছাকনির কাজ করে এই অঙ্গ। দেহের ভেতরে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে কিডনি। এটি ভেতরের ক্ষতিকর পদার্থগুলো দেহ থেকে বের করে দেয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাথমিক ভাবে কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকে কিডনি।

কিডনির অসুখ সহজে বোঝা যায় না। নীরব ঘাতকের মতো এটি কাজ করে। উপসর্গ বোঝার আগে কিডনির ৯০ শতাংশ খারাপ হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই কিডনির ব্যাপারে সচেতন থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত কিডনির অবস্থা পরীক্ষা করান।

 কিডনির সুস্ততায় কিছু অভ্যাস

প্রতিদিন অবশ্যই অন্তত১০ – ১৫ গ্লাস (৪ লিটার) জল খাওয়া দরকার।

কখনওই প্রস্রাব চেপে রাখা চলবে না। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

স্বাস্থ্যকর এবং কম সোডিয়াম যুক্ত, কম কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।

রক্তের ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলি বের করে দিয়ে ছাকনির কাজ করে কিডনি। তাই আপনারও দায়িত্ব কিডনিকে সুস্থ রাখা। অ্যালকোহল, ওষুধ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও ছাকনির কাজ করে কিডনি। তাই প্রয়োজনের বেশি ওষুধ খাবেন না। মদ্যপানেও নিয়ন্ত্রণ আনুন।

দুধ, ঘি, পনির, দইসহ দুগ্ধজাত পণ্য ক্যালসিয়ামে ভরা এবং এগুলো প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা   বৃদ্ধি করে। কিন্তু এ খাবারগুলো কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করে।

আমরা অনেকেই প্রতিদিনের সকালটা এক কাপ কফি দিয়ে শুরু করি। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাফেইন পানে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

আপেল: স্বাস্থ্য সম্মত খাবার ডাক্তার থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। আপেল কিডনির সুরক্ষায় সহায়ক। আপেলে থাকা উচ্চমাত্রায় পেকটিন উপাদান কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

বেরি: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস এটি। এতে ‍উপকারী পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ক্রেনবেরি এগুলো খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। এটি কিডনির সুস্থতায় বেশ সহায়ক।

টক জাতীয় ফল: কিডনি সুস্থ রাখতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি খান। কমলা, লেবুর মতো ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ভিটামিন পাওয়া যায়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রতিদিন লেমন জুস খেলে তিন ধাপ কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

বাঁধাকপি: এতে প্রাকৃতিকভাবেই সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে। এই সবজি কিডনির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। বাঁধাকপির স্বাস্থ্যগুণ অটুট রাখতে হালকা রান্না করে খেতে পারেন।

মিষ্টি আলু: এতে পর্যাপ্ত ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে যা দিনের যেকোনো সময় খেতে পারেন। এতে উচ্চমাত্রায় আঁশ থাকার কারণে হজমে দেরি হয়, যা ওজন কমাতে বেশ সহায়ক।

 কলি: কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য গাঢ় সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। এক ধরনের সুপার ফুড কলিতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেল।

ফুলকপি: ভিটামিন সি, ফলিত এবং আঁশের ভালো উৎস এই সবজি। কিডনির সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য সেদ্ধ অথবা কাঁচা খেতে পারেন ফুলকপি। পুষ্টিবিদদের মতে, কিডনির জন্য পানিসমৃদ্ধ খাবার উপকারী। কিডনির সুরক্ষায় সেলারি, শসা, তরমুজ খেতে পারেন।

হলুদ

এলার্জি থেকে ত্বককে রক্ষা করা ত্বককে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কিডনির রক্ষাও করে হলুদ। নিয়মিত হলুদ খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। সেই সঙ্গে কিডনিও পরিষ্কার হয়। এতে থাকা কারকুমিনে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান কিডনি রোগ ও পাথর জমা হওয়া রোধ করে।

অলিভ অয়েল

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রতিদিনের রান্নায় অন্যান্য তেলের চেয়ে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে অলিক এসিড, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ফ্যাটি এসিড আছে যা কিডনি সুস্থ রাখার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।

আদা

কিডনিকে আরও কার্যকরী করতে আদা খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ কিডনিকে ভাল রাখতে আদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদা কিডনিতে রক্তের চলাচল বাড়িয়ে কিডনিকে সচল ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতা আরও বেড়ে যায়। যদি নিয়মিত কাঁচা আদা, আদার গুড়া কিংবা জুস করে খাওয়া যায় তাহলে তা কিডনি পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে।

লেবুর শরবত

প্রতিদিন লেবু মেশানো জল খেলেও কিডনি পরিষ্কার হয়। লেবুতে যে এসিড উপাদান আছে তা কিডনিতে জমা হওয়া পাথর ভাঙ্গতে বেশ কার্যকর। লেবুতে যে সাইট্রাস উপাদান আছে তা কিডনিতে থাকা ক্রিস্টালদের পরস্পরের জোড়া লাগতে বাধা দেয়।

এই খবরটা তাঁর সঙ্গে শেয়ার করুন, যার এটা জানা দরকার