গোপালপুরেই কি গোপাল ভাঁড়ের বাড়ি, কী জানা গেল..

গ্রামের নাম গোপালপুর হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে জ্ঞান ও বুদ্ধির রাজা গোপাল ভাঁড় এর সাথে কোন সম্পর্ক আছে কিনা? তা জানতে চলে যেতে হয় শান্তিপুর জেলার গোপালপুর গ্রামে। শিয়ালদা থেকে ট্রেনে চেপে পৌঁছাতে হবে বাদকুল্লা স্টেশন। সেখান থেকে টোটো ধরে নামতে হবে গোপালপুর গ্রামে।
জানা যায় নদিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম পুরুষ ভবানন্দ মজুমদারের পৌত্র রাঘব রায় নবদ্বীপের সুবিখ্যাত পন্ডিত গোবিন্দ ন্যয় বাগীশ ভট্টাচার্যকে প্রায় ১০০০ বিঘা জমি দান করেন। দানপত্রটি এখনো সংরক্ষিত আছে।

এই বিশাল জমির একাংশে অট্টালিকা নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাস করতেন গোবিন্দ ন্যয় বাগীশ। সেই সময় এর পাশ দিয়েই বয়ে যেত গঙ্গা নদী। তারই বুকে আড় করে তিনটি বাঁধ থাকায়, গ্রামের নাম হয় আড়বান্দী। পরবর্তীকালে অবশ্য এই গ্রাম তিন ভাগে ভাগ হয়ে নাম হয়- গোপালপুর, দেনুই ও আড়বান্দী।

গোবিন্দ ন্যয় বাগীশের বংশধররা এখনও এখানে বসবাস করে। গ্রামে রয়েছে
তাদের প্রতিষ্ঠিত ৩০০বছরের পুরোনো জাগ্রত রক্ষাকালী মন্দির, যাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে এক বুড়ো বটগাছ। এছাড়াও রয়েছে একটি প্রাচীন ব্রহ্মা মন্দির। এটি সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন ব্রহ্মা মন্দির। যার উল্লেখ আছে বিভিন্ন পঞ্জিকায়। প্রতিবছর ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের পুজো হয় এই মন্দিরে। যাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় এক বিশাল মেলার। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তদের আগমন হয় এই উৎসবে।

তবে গোপাল ভাঁড়ের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই এই গ্রামের। এমনকি নদীয়া লাইব্রেরীতেও এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।

শেয়ার করে ভারতীয় হওয়ার গর্ব করুন

আপনার মতামত জানান