বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তি। পৌষ মাসের শেষ দিন পালন করা হয়। ‘সংক্রান্তি’ কথাটির অর্থ গমন করা। নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশ করাকে সংক্রান্তি বলা হয়। শুভ কাজগুলি এদিন থেকেই শুরু হয়। গ্ৰেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিন্দুদের প্রধান উৎসবগুলির মধ্যে মকর সংক্রান্তি বছরের সর্বপ্রথম উৎসব।
প্রচলিত কথা আছে, মকর সংক্রান্তিতে মহাভারতে পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যা ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন।আবার শোনা যায় সূর্য এদিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন।
পশ্চিমবাংলায় এই বিশেষ দিনটি পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ নামে পরিচিত।
এদিন সকাল থেকেই চলে নানা প্রস্তুতি, কাকভোরে উঠে বাড়ির সদর দরজার সামনে গোবর দিয়ে পৌষবুড়ি তৈরি করা। তুলসী মন্দিরের সামনে চালের গুঁড়োর বাহারি নকশা।আলপনা দেওয়া, কোথাও কোথাও আবার সংক্রান্তির আগের সন্ধ্যায় পৌষ আগলানো হয়। বৌ-ঝি’ দের গান করতে শোনা যায় “পোষ মাস লক্ষী মাস না যাইও ছড়িয়া, ছেলেপিলেকে ভাত দেব খান্দা ভরিয়া।”
এই পৌষ সংক্রান্তিতে মূলত চালের গুড়ো, ময়দা, নারকেল, দুধ, গুড় দিয়ে বিভিন্ন পিঠে তৈরি হয়। তার সঙ্গে তিল, কদমা সহ নানা পিথে পুলি খাওয়ার রীতিও রয়েছে।
তামিলনাড়ুতে মকর সংক্রান্তি পোঙ্গল নামে পরিচিত। সে রাজ্যে এটিই সবচেয়ে বড় উত্সব।বীরভূমের কেন্দুলি গ্রামে এ দিনটি জয়দেব মেলা হয়। বাউল গান এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ। টুসু উৎসবে মেতে উঠে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া এবং বর্ধমান, আসানসোল ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকার মানুষজন।

মাত্র ১২ হাজারে ৮ জিবি RAM এর মোবাইল- এখনই কিনুন