কলকাতা: ভারত তো বটেই, সুদূর আমেরিকাতেও বিরাট প্রভাব ছিল বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের। শিকাগো শহরে তাঁর মাত্র ৩ মিনিটের বক্তৃতা বদলে দিয়েছিল গোটা আমেরিকার ভবিষ্যত।
শিকাগো শহরে স্বামীজির যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ভারত থেকে জাহাজে করে সেখানে যাওয়া ছিল সেযুগে যথেষ্ট ব্যয়বহুল। এক সন্ন্যাসীর কাছে সেই টাকা কোথায়? কিন্তু যিনি রাস্তা দেখান, তিনিই পাড় করে দেন। উত্তর-পূর্ব রাজস্থানে খেতড়ির রাজা অজিত সিংহ-র সহায়তায় স্বামীজি পৌঁছান আমেরিকায়। অজিত সিংহই তাঁকে জাহাজের টিকিটের বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন।
তবে শুধুমাত্র জাহাজের খরচ জোগাড় হওয়াই তো সব শেষ না। স্বামীজি যখন আমেরিকায় আসেন, তখন সেখানে বিরাট শীত। এক গেরুয়া বস্ত্রে শীতের মধ্যেই রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন স্বামীজি। অবশেষে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় তাঁর প্রতি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন হেনরি রাইটের ব্যক্তিগত পরিচিতিকে পাথেয় করে বিশ্ব মহা ধর্ম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন স্বামীজি।
ওই সম্মেলনে স্বামীজিকে বলতে দেওয়া হয় একেবারে শেষের দিকে। বক্তব্য রাখতে উঠে স্বামীজি প্রথমেই বলেন, ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অব আমেরিকা’ । তাঁর এই বক্তব্যে সকল দর্শক আকর্ষিত হন তাঁর প্রতি। এরপর সনাতন হিন্দু ধর্মের সহনশীলতার বার্তা দেন স্বামীজি। বেশ কয়েকদিন ওই সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছিলেন স্বামীজি। আমেরিকাবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।
সম্মেলনে অন্য ধর্ম প্রচারকেরা যখন নিজেদের ধর্মের আড়ম্বর প্রচারে ব্যস্ত, সে সময় বিবেকানন্দের মূলত জোর দিয়েছিলেন হিন্দু ধর্মের উদারতার ওপরে, সহনশীলতার ওপরে। যা বদলে দিয়েছিল সমগ্র আমেরিকাবাসীর ভবিষ্যত।

মাত্র ১২ হাজারে ৮ জিবি RAM এর মোবাইল- এখনই কিনুন