Weekend Tour in Monsoon from kolkata: বর্ষাকাল অনেকের কাছে শুধুই ভেজা রাস্তাঘাট ও ভোগান্তির নাম। তবে প্রকৃতিপ্রেমীরা জানেন, এই সময়টা প্রকৃতিকে নতুন রূপে দেখার মোক্ষম সুযোগ। সবুজে ঢাকা পাহাড়, কুয়াশার চাদরে মোড়া গ্রাম্য পরিবেশ, অথবা গঙ্গার ধারে নির্জন বসে থাকার আনন্দ—সবকিছুই যেন অন্য রকম অনুভূতি জাগায়। কলকাতা এবং তার আশেপাশে এমন অনেক জায়গা আছে, যেগুলি বর্ষাকালের জন্য একদম উপযুক্ত।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই মৌসুমে কলকাতার কাছাকাছি কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়।
১. রায়চক (Raichak)
কলকাতা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রায়চক বর্ষাকালে ঘুরতে যাওয়ার দারুণ জায়গা। গঙ্গার ধারে অবস্থিত এই ছোট্ট জায়গাটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ এবং শান্তিপূর্ণ প্রকৃতির জন্য জনপ্রিয়। রায়চকের ফোর্ট রাধা, গঙ্গার ধারে বসে থাকা ও স্থানীয় খাবার উপভোগ করা এই সময় দারুণ অভিজ্ঞতা।
২. চুনার (Chunar) ও ফুলেশ্বর
হাওড়া জেলার ফুলেশ্বর ও তার পাশের গ্রাম্য এলাকা বর্ষার সময় মন মাতানো রূপ নেয়। ধানখেত, কুয়াশা ঢাকা পথ আর শান্ত পুকুরপাড় বর্ষার সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে। হালকা বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় এই গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করার আনন্দ অনন্য।
৩. বোলপুর শান্তিনিকেতন (Bolpur Santiniketan)
শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি বর্ষাকালে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য এই স্থানটি শুধুই সাহিত্যপ্রেমীদের নয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও খুব প্রিয়। বর্ষার দিনে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস, শোনাঝুরির হাট আর কাঁদামাখা পথ বর্ষাকে এক অন্য রূপে তুলে ধরে।
৪. টাকি (Taki)
কিছুটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে টাকি আপনার তালিকায় থাকতেই পারে। এটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি ছোট্ট শহর, যা ইছামতী নদীর ধারে অবস্থিত। বর্ষাকালে নদীর জল ফুলে ওঠে, নদীভ্রমণের জন্য নৌকাও পাওয়া যায়। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে নির্জন ও শান্ত টাকি বর্ষার আদর্শ গন্তব্য।
৫. বাকখালি (Bakkhali)
যাঁরা বর্ষাকালে সমুদ্র দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য বাকখালি এক অনবদ্য পছন্দ। বর্ষায় সমুদ্রের রূপ আরও বুনো, আরও রহস্যময়। হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রের ধারে হাঁটা, মোহনার ধারে বসে চায়ের কাপ হাতে সময় কাটানো—সবকিছুই আপনাকে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেবে।
পূর্ব রেলে এসি ট্রেন চালু হচ্ছে শীঘ্রই, ভাড়া একেবারে সাধ্যের মধ্যে
৬. দীঘা বা মন্দারমণি (Digha / Mandarmani)
যদিও বর্ষাকালে সমুদ্রতট কিছুটা বিপজ্জনক হতে পারে, তবে দীঘা বা মন্দারমণিতে গিয়ে রিসর্টে বসে বৃষ্টি দেখার মজাই আলাদা। ছুটির দিনে পরিবার বা সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো সময় বর্ষাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে।
৭. পিয়ারলেস ইন, বারুইপুর ও ক্যানিং
যাঁরা শহরের খুব কাছেই এক দিনের ট্রিপ চান, তাঁদের জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, ক্যানিং বা পিয়ারলেস ইন রিসর্ট আদর্শ। এসব জায়গায় বর্ষাকালে গাছগাছালির রং আরও গাঢ় হয়, ছোট ছোট জলাশয়ে কাদা ও জলমাখা পথ যেন গ্রামবাংলার প্রাণ তুলে ধরে।
৮. গরপাঁচকোট (Garpanchkot)
পুরুলিয়া জেলার সীমান্তে অবস্থিত গরপাঁচকোট পাহাড় ও জঙ্গলের মিশ্রণে এক অপূর্ব বর্ষাকালীন পর্যটন কেন্দ্র। মেঘে ঢাকা পাহাড়, পুরনো ধ্বংসাবশেষ ও সবুজ বন একত্রে বর্ষায় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৯. বিষ্ণুপুর (Bishnupur)
ব্যাংকুরার এই ঐতিহাসিক শহরটি বর্ষার দিনে দেখতে একেবারে রাজকীয় মনে হয়। মাটির টেরাকোটার মন্দিরগুলিতে বৃষ্টির ছোঁয়া পড়লে সেগুলির রং যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ইতিহাসপ্রেমী এবং শিল্পকলার অনুরাগীদের জন্য আদর্শ স্থান।
১০. দার্জিলিং মেইল ধরে পাহাড়ে
যদিও একটু দূরের গন্তব্য, তবে দার্জিলিং যাওয়া বর্ষার অন্যতম রোমান্টিক অভিজ্ঞতা হতে পারে। ট্রেনে করে পাহাড়ের দিকে যেতে যেতে আপনি দেখতে পাবেন বৃষ্টিতে ভেজা চা-বাগান, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, ঝরনা আর প্রকৃতির অদ্ভুত শান্তি।
১১. মালবাজার এবং গরুমারা (Dooars route)
যদি একটু বড় ট্যুর পরিকল্পনা করতে চান, তাহলে ডুয়ার্স অঞ্চলের মালবাজার, লাটাগুড়ি বা গরুমারা জাতীয় উদ্যান ঘুরে আসতে পারেন। বর্ষাকালে জঙ্গলের রং গাঢ় হয়, বন্যপ্রাণের দেখা মেলে, আর বাতাসেও থাকে আদ্রতা ও প্রকৃতির ঘ্রাণ।
১২. কুর্সিয়াং (Kurseong)
দার্জিলিং যাওয়ার পথে একটি ছোট পাহাড়ি শহর। বর্ষার দিনে এই শহর একেবারে মেঘে ভেসে যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে প্রকৃতি উপভোগের মেজাজে কুর্সিয়াং অনন্য।
১৩. কাকদ্বীপ ও গঙ্গাসাগর
যদিও গঙ্গাসাগর মেলা মূলত জানুয়ারিতে হয়, কিন্তু বর্ষার সময়ে এখানে যাওয়া মানে প্রকৃতির শান্ত রূপ দেখা। কাকদ্বীপ থেকে লঞ্চে নদী পার হয়ে দ্বীপে যাওয়া, বর্ষার জলে মোহনার সৌন্দর্য দেখাও দারুণ এক অভিজ্ঞতা।
১৪. মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি (Shillong-Cherrapunji)
যদি লম্বা ট্রিপের কথা ভাবেন, তবে বৃষ্টির রাজধানী চেরাপুঞ্জির নাম না বললেই নয়। জুলাই-অগাস্টে এখানে গড়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়। জলপ্রপাত, গুহা, সজীব সবুজ উপত্যকা—সবকিছু যেন বৃষ্টির নাচে জেগে ওঠে।
১৫. ঝাড়গ্রাম
পশ্চিম মেদিনীপুরের এই বনভূমি ঘেরা জায়গাটি বর্ষার সময় দুর্দান্ত হয়ে ওঠে। লাল মাটি, মহুয়া গাছ, রাজবাড়ি আর ছোট নদীগুলি একত্রে মন ছুঁয়ে যায়।
১৬. জয়পুর জঙ্গল:
বাঁকুড়া জেলার জয়পুর জঙ্গল
অজানা, নির্জন কিন্তু অপূর্ব সবুজে ঘেরা জয়পুর জঙ্গল একেবারে অফবিট বর্ষাকালীন গন্তব্য। ছোট নদী, কাদামাখা পথ আর ঝিঝি পোকার আওয়াজে এই স্থান এক রহস্যময় সৌন্দর্য ধারণ করে।
১৭. শুষুনিয়া পাহাড়:
বাঁকুড়ার আরেক রত্ন শুষুনিয়া বর্ষার সময় হাইকিং বা ট্রেকিংয়ের জন্য আদর্শ। এই জায়গাটি এখনও তুলনামূলকভাবে কম ভিড়ের, তাই প্রকৃতিকে একান্তে উপভোগ করার সুযোগ মেলে।
১৮. শান্তিনিকেতন:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শহর শান্তিনিকেতন বর্ষার দিনে এক ভিন্ন রূপ নেয়। বিশ্বভারতীর লাল মাটি, হালকা বৃষ্টির ফোঁটায় স্নান করা অশ্বত্থ গাছ, সোনাঝুরি হাটের গান আর কবিতায় মিশে থাকা শান্ত পরিবেশ মনকে শান্ত করে। বৃষ্টি পড়লে কবিতার আবহে হারিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই সেরা স্থান।
১৯. তারকেশ্বর:
হুগলির এই প্রাচীন মন্দির শহরটি শুধু ধর্মীয় কারণেই বিখ্যাত নয়। বর্ষার সময় চারপাশের গ্রাম্য দৃশ্য, ভেজা পথ আর পবিত্র গঙ্গার শাখা নদীগুলি এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা দেয়। কম খরচে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে ভ্রমণের জন্য এটি দারুণ বিকল্প।
২০. তাজপুর:
সমুদ্রের ধারে বর্ষায় সময় কাটাতে চাইলে দিঘা-শঙ্করপুরের তুলনায় এখন অনেকেই তাজপুর বেছে নেন। কম ভিড়, বেশি প্রকৃতি, লাল বালি আর ঝোড়ো হাওয়ার মাঝে সমুদ্রের ঢেউ—বর্ষার তাজপুর একদম cinematic experience। Weekend Tour in Monsoon from kolkata

মাত্র ১২ হাজারে ৮ জিবি RAM এর মোবাইল- এখনই কিনুন